বেলজিয়ামে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দূতাবাস কর্তৃপক্ষের উন্মুক্ত আমন্ত্রণের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের ছোট ভাই হাসান মোর্শেদ, আওয়ামী লীগের দুই অংশের সভাপতি সহিদুল ইসলাম সহিদ ও বজলুর রশীদ বুলু, যুবলীগের সভাপতি খালেদ মিনহাজসহ আরো অনেকে উপস্থিত হলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে দুই পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা বরাবরই বলে আসছে যে, রাষ্ট্রীয় দূতাবাস কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়, বরং এটি সমগ্র জাতির সম্পদ। তাই বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই দূতাবাস কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, রাজনৈতিক পক্ষপাত এড়িয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠান পরিচালনা করা উচিত। কিন্তু দূতাবাস প্রশাসন এই অনুরোধ আমলে নেয়নি। ফলে, বিএনপির নেতা-কর্মীরা আওয়ামী নেতাদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি জোরালো প্রতিবাদ জানায়। এতে এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং বিএনপির প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী লীগ নেতারা বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দূতাবাসে প্রবেশের নৈতিক অধিকার নেই বলে মনে করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। কারণ, তারা অতীতে দূতাবাসকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছিল এবং প্রবাসীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতে, প্রবাসে আর সেই অপসংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না। দূতাবাসে আওয়ামী লীগের প্রবেশ মানে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করা, যা জনগণ মেনে নেবে না। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বেলজিয়াম শাখা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটন ,বেলজিয়াম বিএনপির, , সহ সভাপতি আশরাফ কিটু, বেলজিয়াম বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হাসান মম,, হাবিবুল হাসান
সোহাগ,দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন, জসীম উদ্দিন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বেলজিয়াম বিএনপি।
কাজী বাবু, আহবায়ক যুবদল বেলজিয়াম
মোস্তফা মোহাম্মাদ বাবু, (সদস্য সচিব যুবদল,
সাখাওয়াত হোসেন রাফি, যুগ্ম আহবায়ক যুবদল বেলজিয়াম, রিপন সরকার, সভাপতি স্বেচ্ছাসেবকদল।আমরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে চাই। যারা স্বৈরাচারী শাসনের ধারক ও বাহক, তাদের বিতাড়িত করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দূতাবাসের উচিত ছিল দলীয় পক্ষপাত এড়িয়ে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, বিএনপির নেতা-কর্মীরা এটিকে তাদের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন, যাতে প্রমাণ হয় যে, জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রবাসেও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।